বিশ্বখ্যাত আইসক্রিম ব্র্যান্ড হ্যাগেন-ডাজস ও ড্রামস্টিকের মালিকানা ছেড়ে দিচ্ছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানিটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি গত সপ্তাহে জানিয়েছে, কোম্পানির হাতে থাকা অবশিষ্ট আইসক্রিম ব্যবসা অংশীদার প্রতিষ্ঠান ফ্রোনেরির কাছে বিক্রি করতে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। প্রায় ১৩০ কোটি ডলার মূল্যের ব্যবসাটি আগামী বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ফ্রোনেরির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নেস্প্রেসো ও কিটক্যাটের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মালিক প্রতিষ্ঠান নেসলে এখন বিশাল ব্যবসায়িক পরিধি ছোট করে বিক্রয় বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের নতুন সিইও ফিলিপ নাভরাতিল এ সংস্কার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বার্ষিক আয়ের প্রতিবেদনে নেসলে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোম্পানিটি মূলত কফি, পোষা প্রাণীর খাবার ও পুষ্টিজাত পণ্যের ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব দেবে। বিবৃতিতে নেসলের প্রধান নির্বাহী ফিলিপ নাভরাতিল বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলোর ওপর ভিত্তি করে পুরো ব্যবসাকে চারটি প্রধান খাতে সাজানো হচ্ছে। নেসলের বিশাল পণ্যের তালিকায় সিরিয়াল, কফি বা ফ্রোজেন ফুডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা থাকলেও আইসক্রিম ব্র্যান্ডগুলো নজরদারিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি করছিল। মূলত ব্যবসাকে আরো সুসংহত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে নেসলে এবং যুক্তরাজ্যের আইসক্রিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আরঅ্যান্ডআর’ মিলে ফ্রোনেরি গঠন করে। এরপর ২০১৯ সালে নেসলে যুক্তরাষ্ট্রের আইসক্রিম ইউনিটটিও ৪০০ কোটি ডলারে ফ্রোনেরির কাছে বিক্রি করে দেয়। আইসক্রিম ব্যবসার কিছু অন্তর্নিহিত জটিলতার কারণে বড় বড় ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান এখন খাতটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে। ঋতুভেদে চাহিদার ব্যাপক পরিবর্তন ও হিমায়িত পণ্য পরিবহনে বিশেষায়িত সাপ্লাই চেইনের প্রয়োজনীয়তা কোম্পানিগুলোর জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল নেসলে নয়, গত ডিসেম্বরে ইউনিলিভারও আইসক্রিম বিভাগটিকে মূল ব্যবসা থেকে আলাদা করে ফেলে। ব্যবসায়িক পরিধি ছোট করার এ ধারাবাহিকতায় নেসলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি এখন অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এদিকে ব্যবসায়িক মন্দা কাটানোর চেষ্টার মাঝেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে নেসলে। শিশুদের ফর্মুলা দুধে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বেশকিছু দেশ থেকে পণ্য তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর সিএনএন